রাশিয়াজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির ৮৯টি প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রায় সবখানেই পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক অঞ্চলে প্রতি গ্রাহকের জন্য জ্বালানি কেনার পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেরিক্যান বা অতিরিক্ত পাত্রে জ্বালানি বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার (রিফাইনারি) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাঘাত ঘটেছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়ে।
এর পাশাপাশি, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় উৎপাদন আরও কমে যায়। ফলে বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংকটকে আরও তীব্র করেছে সাধারণ মানুষের আতঙ্কজনিত কেনাকাটা। বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি মজুত করতে শুরু করেছেন। এতে বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং সংকট দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে।
গ্রীষ্মকালীন সময়ে কৃষিকাজ, পর্যটন এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। এই মৌসুমি চাহিদাও বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি দেখা গেছে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া, দোনেৎস্ক (DNR), লুহানস্ক (LNR), জাপোরিঝিয়া এবং খেরসন অঞ্চলে। এসব এলাকায় কেবল শোধনাগারের ক্ষতিই নয়, বরং জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
ফলে অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষ সময়মতো জ্বালানি পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে, আবার কিছু অঞ্চলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও জ্বালানি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রুশ কর্তৃপক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখা, মজুতদারি ঠেকানো এবং প্রয়োজনীয় এলাকায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে চলমান যুদ্ধ এবং অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তথ্যসূত্র: স্পুটনিক
