ইউক্রেন দাবি করেছে, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করছে, তার প্রায় ৯০ শতাংশে জাপানে উৎপাদিত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক প্রতিনিধি ভ্লাদিস্লাভ ভ্লাসিউক জাপানের সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব যন্ত্রাংশের বেশিরভাগই মূলত সাধারণ বেসামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে সেগুলো রাশিয়ায় পৌঁছেছে এবং পরবর্তীতে সামরিক প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইউক্রেনের ধারণা। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের শক্তির ওপর নির্ভর করছে না; বরং ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক উপাদান, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সরবরাহ শৃঙ্খল এখন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার ব্যবহৃত কিছু আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রে জাপানের একাধিক বড় অর্ধপরিবাহী ও ইলেকট্রনিক নির্মাতার উৎপাদিত উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে খ-১০১ নামের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ভেতরে এসব উপাদান পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। ইউক্রেন সরকার এ বিষয়ে কিছু অভ্যন্তরীণ নথিও উপস্থাপন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব উপাদান সরাসরি সামরিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সরবরাহ করা হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি। বরং অভিযোগ হলো, বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় বিভিন্ন মধ্যবর্তী পথ ব্যবহার করে সেগুলো শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জামে যুক্ত হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাপানের ১৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বলেছে, পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়া তারা নিশ্চিত করতে পারছে না যে তাদের পণ্য সত্যিই রুশ অস্ত্রে ব্যবহৃত হয়েছে কি না। একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত উপাদান ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। অন্য একটি প্রতিষ্ঠান বলেছে, সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ তাদের নয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউক্রেনের প্রতিনিধির মতে, রাশিয়া ধীরে ধীরে পশ্চিমা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীনা উৎসের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের চেষ্টা করছে। তবুও বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক অস্ত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে সহজলভ্য বেসামরিক প্রযুক্তির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি, সরবরাহ শৃঙ্খল পর্যবেক্ষণ এবং চূড়ান্ত ব্যবহার যাচাইয়ের ওপর আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
