ঢাকা, ১৪ আগস্ট ২০২৬: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারতের আমন্ত্রণে নয়াদিল্লি সফর না করার অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের কূটনৈতিক সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে আপাতত সংবাদমাধ্যমের সূত্রনির্ভর দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত সদস্য ও অংশীদার দেশের বাইরের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানাতে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জুলাইয়ে এই আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।
দ্য ট্রিবিউনের দাবি, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ভারতীয় কূটনীতিককে জানান, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ভারত-বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ওই বৈঠকে তিনি সরাসরি দিল্লি সফরকে প্রত্যর্পণের সঙ্গে শর্তযুক্ত করেছেন—এমন কোনো সরকারি বিবৃতি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ১৭ জুলাই জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধ ভারত পেয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় বিবেচনা করে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও ভারত একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিল। অর্থাৎ, নয়াদিল্লি এখন পর্যন্ত হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়েও ঢাকার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২৩ জুলাই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা জানান। ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর শুরু থেকেই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফরের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, বাংলাদেশের বিচারপ্রক্রিয়া, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ জনমত সরাসরি যুক্ত। সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলন তাই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।
