ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন কি না, তা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা জোরালো হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই সম্ভাব্য সফর নিয়ে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যেই ১৬ আগস্ট ২০২৬ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও জনকূটনীতি অনুবিভাগের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব একেএম শহীদুল বলেন, ভারতে অবস্থানরত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের অনুকূল পরিবেশ তৈরির অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে এ বিষয়ে দিল্লিকে বার্তা দিয়েছে ঢাকা।
বাংলাদেশের অবস্থান অনুযায়ী, ভারত সফরের আগে ৩টি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি। দ্বিতীয়ত, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের জন্য কার্যকর পরিবেশ তৈরি করা। তৃতীয়ত, এসব বিষয় বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের জন্য অনুকূল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
এ অবস্থান মূলত দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়কে একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক যোগাযোগ, সীমান্ত, প্রত্যর্পণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নতুন সরকারের সময়ে এসব বিষয়ে ঢাকার প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়, তার ওপর দুই দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যোগাযোগের গতি অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোকে সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ঢাকা সফরের আগে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে—এমন বার্তাই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এখন মূল নজর থাকবে দিল্লির প্রতিক্রিয়া এবং প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কী ধরনের অগ্রগতি হয় তার ওপর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর তাই কেবল একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশের বিচারিক দাবি, প্রত্যর্পণনীতি এবং ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণও জড়িত। বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও পলাতক আসামিদের বিষয়ে ঢাকার অবস্থান যদি সফরের পূর্বশর্ত হিসেবে কার্যকর থাকে, তাহলে দিল্লির সঙ্গে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় এই বিষয়গুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশের বার্তার জবাবে ভারত কী পদক্ষেপ নেয় এবং সেই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য সফরের পথ কতটা সহজ করে।
