বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন যুগের সূচনা করতে তুরস্কের সহযোগিতায় বগুড়ায় একটি আধুনিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সামরিক মানের ড্রোন প্রযুক্তি উৎপাদন ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বগুড়ায় একটি বিমানঘাঁটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নতুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হবে। একই এলাকার তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ড্রোন উৎপাদন কারখানাও স্থাপন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রতিরক্ষা অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিমানঘাঁটি ও ড্রোন কারখানা প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও সৃষ্টি হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যৌথ উদ্যোগের আওতায় তুরস্ক বাংলাদেশের ৫০ জন প্রযুক্তিবিদ ও টেকনিশিয়ানকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা দেশে ড্রোন উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে তুরস্কের বহুল ব্যবহৃত TB-2 ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও কম্পোনেন্ট বাংলাদেশে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তুরস্ক প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও কারিগরি জ্ঞান সরবরাহ করবে। পরবর্তী ধাপে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্ক যৌথভাবে MALE (Medium Altitude Long Endurance) শ্রেণির ড্রোন উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, MALE শ্রেণির ড্রোন দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম এবং নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন কৌশলগত অভিযানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ফলে এই প্রযুক্তি অর্জন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে উন্নত সামরিক ড্রোন প্রযুক্তি গবেষণা ও উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আত্মনির্ভরতার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বগুড়ায় ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়; এটি দেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
