রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা দুই দেশের চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। হামলায় রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিসের একাধিক রসদ সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু হয়। রাতের আঁধারে সংঘটিত এই হামলার পর কয়েকটি গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ২টি বড় রসদ সরবরাহ কমপ্লেক্সের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রুশ কর্তৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গ, লেনিনগ্রাদ অঞ্চল এবং অধিকৃত ক্রিমিয়ার সিমফেরোপলে অবস্থিত স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান তাতিয়ানা কিম জানান, দ্রুত কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যদিও কয়েকটি স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, একটি স্থাপনায় হামলার পর ঘন ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়। বিভিন্ন সূত্রে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর মিললেও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো ভিন্নমত রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে শুধু জ্বালানি অবকাঠামো নয়, রাশিয়ার রসদ সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাকেও পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে। কিয়েভের দাবি, এসব রসদ কেন্দ্রের মাধ্যমে রুশ বাহিনীর জন্য ড্রোনের যন্ত্রাংশ, সামরিক সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়। তবে রাশিয়া ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ওয়াইল্ডবেরিস সম্পূর্ণ বেসামরিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং সামরিক সরবরাহের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
চলতি মাসেই প্রতিষ্ঠানটির আরও কয়েকটি গুদামে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে মস্কো অঞ্চলের ইলেক্ট্রোস্তাল এবং তাম্বভ অঞ্চলের কোটভস্কে অবস্থিত গুদামেও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়ার অভ্যন্তরের গভীর এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে ইউক্রেন কেবল সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে না, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।
অন্যদিকে রাশিয়া এসব হামলাকে বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সবসময় সম্ভব হয় না। ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা এবং লক্ষ্যবস্তুর প্রকৃতি নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, রসদ সরবরাহ অবকাঠামো এখন রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এবং এ ধরনের হামলা ভবিষ্যতে সংঘাতের গতিপথে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।