রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ড্রোন অপারেটরের বাড়তি চাহিদা পূরণে ভিডিও গেমারদেরও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে ইউক্রেন। দেশটির এক ড্রোন কমান্ডারের দাবি, বিশেষ করে জিটিএর মতো ভিডিও গেমে হেলিকপ্টার পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা খেলোয়াড়রা বাস্তব এফপিভি ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন। ইউক্রেনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইউক্রিনফর্মকে দেওয়া বক্তব্যে ওই কমান্ডার জানান, গেমে হেলিকপ্টার মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করা অনেক খেলোয়াড় পরবর্তীতে ইউক্রেনীয় বাহিনীতে ড্রোন অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কন্ট্রোলার ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কোনো উড়ন্ত যান নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস বাস্তব ড্রোন পরিচালনার প্রাথমিক দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হতে পারে।
এফপিভি ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে অপারেটরকে একই সময়ে হাতের সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্ভুলভাবে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা দেখাতে হয়। দীর্ঘ সময় ভিডিও গেম খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় কিছু খেলোয়াড়ের মধ্যে এসব সমন্বয় ও প্রতিক্রিয়ার দক্ষতা আগে থেকেই তৈরি থাকতে পারে বলে ইউক্রেনীয় কমান্ডারটি মনে করেন। তবে গেমিং অভিজ্ঞতাকে সরাসরি সামরিক দক্ষতার সমতুল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনার জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, লক্ষ্য শনাক্তকরণ, যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান এবং শত্রুর আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা প্রয়োজন। ফলে গেমারদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলেও তাদের সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে এফপিভি ড্রোন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় দক্ষ অপারেটরের প্রয়োজনও বেড়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে এসব ড্রোন নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হওয়ায় অপারেটরের দক্ষতা কার্যক্রমের কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই বাস্তবতায় প্রচলিত সামরিক নিয়োগের পাশাপাশি ভিডিও গেমে দক্ষ তরুণদের সম্ভাব্য জনবল হিসেবে বিবেচনা করছে ইউক্রেন। বিষয়টি আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের পরিবর্তিত সম্পর্কও তুলে ধরছে। আগে যেখানে সামরিক দক্ষতা মূলত প্রচলিত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করত, এখন কিছু প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণ, চোখ-হাতের সমন্বয় এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার মতো সাধারণ দক্ষতাও প্রাথমিক প্রশিক্ষণে কাজে লাগতে পারে। তবে গেমিং অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই বাস্তব যুদ্ধের বিকল্প নয়। শেষ পর্যন্ত ড্রোন পরিচালনার সক্ষমতা নির্ভর করবে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির ওপর।
