আন্তর্জাতিকAug 7, 20264 min read

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের ৪ লাখ বর্গমিটারের বেশি গুদাম ও লজিস্টিকস অবকাঠামো ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

রুশ হামলায় জুলাইয়ের শুরু থেকে ইউক্রেনের ৪ লাখ বর্গমিটারের বেশি গুদাম ও লজিস্টিকস অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সরবরাহ ও বাণিজ্যে চাপ বাড়াচ্ছে।

শেয়ার করুন:
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের ৪ লাখ বর্গমিটারের বেশি গুদাম ও লজিস্টিকস অবকাঠামো ধ্বংস

২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের ৪ লাখ বর্গমিটারেরও বেশি গুদাম ও লজিস্টিকস অবকাঠামো ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পণ্য সংরক্ষণ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর নতুন করে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর মধ্যে ইউক্রেনের শীর্ষ খুচরা বিক্রেতা ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ফোজি গ্রুপ, নোভুস, রোজেতকা, এপিসেন্টর ও নোভা পোশতার গুদাম ও বিতরণকেন্দ্র রয়েছে। একই সঙ্গে পুমা, লিকুই মলি ও টয়োটা ইউক্রেনের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গুদাম অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে কিয়েভ অঞ্চলের গুদাম খাতে। ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে শুধু এই অঞ্চলেই ১০ লাখ বর্গমিটারের বেশি গুদামঘর হারিয়েছে ইউক্রেন। এটি যুদ্ধের আগে ওই অঞ্চলে বিদ্যমান মোট গুদাম সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক। ফলে পণ্য সংরক্ষণ ও দ্রুত বিতরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

গুদাম ও বিতরণকেন্দ্র ধ্বংসের প্রভাব কেবল একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে খুচরা বাজারে পণ্য পৌঁছানো, দেশীয় উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ, আমদানি-রপ্তানি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়।

বিশেষ করে যুদ্ধ চলমান অবস্থায় নতুন গুদাম নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্গঠন এবং নিরাপদ এলাকায় সরবরাহকেন্দ্র স্থানান্তর করা ইউক্রেনের ব্যবসায়িক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে পরিবহন অবকাঠামো ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি যুক্ত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

ফোর্বস ইউক্রেনের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই চিত্র থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি শুধু সামরিক স্থাপনা বা আবাসিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক অবকাঠামোও বড় আঘাতের মুখে পড়ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এসব স্থাপনা পুনর্গঠন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে।

তথ্যসূত্র: ফোর্বস ইউক্রেন

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।