জাতীয়Aug 15, 20264 min read

দেশভাগের সময় জোর করে সব হিন্দু গ্রাম বাংলাদেশকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

লখনউয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ ১৯৪৭ সালের দেশভাগের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করেন এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সমালোচনা করেন।

শেয়ার করুন:
দেশভাগের সময় জোর করে সব হিন্দু গ্রাম বাংলাদেশকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে

১৯৪৭ সালের দেশভাগের জন্য কংগ্রেসের তৎকালীন নেতৃত্বকে সরাসরি দায়ী করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ। লখনউয়ে দেশভাগ স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার সময় নরেন্দ্র মোদির মতো শক্তিশালী নেতৃত্ব অথবা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো কোনো নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকলে দেশভাগ ঠেকানো সম্ভব হতো। তাঁর বক্তব্যে দেশভাগের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা উঠে আসে।

যোগী আদিত্যনাথের অভিযোগ, ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে তৎকালীন কংগ্রেস দেশভাগ মেনে নিয়েছিল। তাঁর দাবি, এর ফলে ভারতকে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাগত মূল্য দিতে হয়েছে। দেশভাগের সময় সিন্ধু, পাঞ্জাব ও বাংলার বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলের বহু হিন্দু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী পাকিস্তানের অংশে পড়ে যায়। বাংলার ক্ষেত্রেও হিন্দু-অধ্যুষিত বহু গ্রাম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

দেশভাগের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও কংগ্রেসের সমালোচনা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, ভোটব্যাংক হারানোর আশঙ্কায় কংগ্রেস এসব বিষয়ে যথেষ্ট সরব হয় না। বিশেষ করে দলিত হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগের ক্ষেত্রেও দলটির নীরবতার সমালোচনা করেন তিনি। তবে এসব বক্তব্য যোগী আদিত্যনাথের রাজনৈতিক অভিযোগ ও মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে।

ভারতের ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়েও বক্তব্য দেন যোগী। তাঁর দাবি, ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অংশ ছিল প্রায় ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ। বিপুল সম্পদের কারণে বিদেশি শক্তিগুলো ভারত দখলে আগ্রহী হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাইরের আক্রমণের পাশাপাশি জাতি, অঞ্চল ও ভাষাভিত্তিক অভ্যন্তরীণ বিভাজনও ভারতকে দুর্বল করেছিল। এর সুযোগে দেশ দীর্ঘ সময় পরাধীনতার শিকার হয়।

দেশভাগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যোগী বলেন, ১৯৪৭ সালের ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি ভারত এখনো সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, মাওবাদসহ বিভিন্ন ধরনের উগ্রপন্থার মাধ্যমে মোকাবিলা করছে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, দেশভাগ মানব ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় এবং এর পেছনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও তৎকালীন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন।

এ সময় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়েও কংগ্রেসের অবস্থানের সমালোচনা করেন যোগী। তিনি বলেন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আসা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই আইনে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই আইনে মুসলিমদের জমি কেড়ে নেওয়া কিংবা কংগ্রেস বা সমাজবাদী পার্টির সম্পত্তি দখলের কোনো বিধান নেই। তবু আইনটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্যে ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের ভূমিকা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঐতিহাসিক প্রভাব, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং নাগরিকত্ব আইন—এই চারটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য মূলত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশভাগের ইতিহাসকে নতুন করে ব্যাখ্যা করার একটি রাজনৈতিক অবস্থান।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।