রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইউক্রেনের প্রস্তাবগুলো মার্কিন পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুদ্ধ সমাপ্তির প্রস্তুতি নিতে রাশিয়ার ওপর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশের প্রেক্ষাপটে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকা অবস্থায় জেলেনস্কির এই আহ্বান সামনে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দফা শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বাড়ায় সেই আলোচনা কার্যত থেমে যায়।
নতুন করে আলোচনার উদ্যোগের পাশাপাশি জেলেনস্কি রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও সতর্ক করেছেন। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর রাশিয়া বিপুলসংখ্যক নতুন সেনা তলবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ কয়েক লাখ এবং আগামী বছর একই মাত্রায় নতুন রুশ সেনাকে যুদ্ধে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সেনা নিয়মিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি এবং রাশিয়া নতুন করে ব্যাপক সেনা সমাবেশের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। এর আগে ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আংশিক সামরিক মোতায়েনের অনুমোদন দিলে প্রায় ৩ লাখ সেনা রুশ বাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সেনা সমাবেশের সম্ভাবনা নিয়ে মস্কোর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ মার্চে জানিয়েছিলেন, নতুন সেনা সমাবেশ সরকারের আলোচ্যসূচিতে নেই।
গত মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সহসভাপতি দিমিত্রি মেদভেদেভও নতুন করে সেনা ডাকার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন এবং এ ধরনের বক্তব্যকে অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন দাবি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বক্তব্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে—একদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় আরও সক্রিয় করার আহ্বান, অন্যদিকে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে সতর্কতা। তবে রাশিয়ার নতুন সেনা তলবের দাবি এখনো নিশ্চিত নয়। শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে কতটা চাপ প্রয়োগ করতে পারবে, সেটিই সামনে যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
